আমরা কিভাবে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্ত থাকতে পারি

আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি মাদকের ন্যায় কম্পিউটার গেম বা সামাজিক যোগাযোগ সাইটে ও আসক্তি হতে পারে । তাই মাদকে আসক্তির জন্যে যা যা সত্যি, কম্পিউটার গেম  বা সামাজিক যোগাযোগের সাইটে আসক্তির জন্যেও সেগুলো সত্যি । তাই আমরা বলতে পারি একবার আসক্ত হয়ে যাওয়া পর সেখান থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা থেকে  কখনই আসক্ত না হওয়া অনেক বুদ্ধিমানের কাজ । যারা এই আসক্তির ব্যাপারটি জানে না তাদের পক্ষে আসক্ত হয়ে যাবার একটা আশঙ্কা থাকে । কিন্তু তোমরা যারা এই  লেখাগুলো পড়ছ,তারা নিশ্চই সতর্ক থাকবে যেন সহজেই আসক্ত না হয়ে যাও । কম্পিউটার গেম এক ধরনের বিনোদন , কাজেই যারা কম্পিউটার গেম খেলবে তাদেরকে জানতে হবে অন্য যেকোন বিনোদনের জন্যে যেটা সত্যি কম্পিউটার  গেম খেলার বেলাতেও সেটা সত্যি । কম্পিউটার এক ধরনের প্রযুক্তি। তাই অনেকই কম্পিউটার ব্যবহার করে করা যেকোন কাজকেই প্রযুক্তির এক ধরনের ব্যবহার বলে মনে করে ,সেটা মোটেও সত্যি নয় । কম্পিউটার গেম খেলে মোটেও কম্পিউটার প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান হয় না , খেলার আনন্দটা হয় । কাজেই কখনোই কম্পিউটার গেম খেলার পেছনে নিজের দৈনন্দিন অন্যন্য কাজে যেন ব্যাঘাত না ঘটে সেটি সম্পর্কে  নিশ্চিত হতে হবে ।

আশা করা যাচ্ছে তোমরা কখনো কম্পিউটার গেমে আসক্ত হবে না , ঠিক সেরকম তোমাদের চারপাশে যারা আছে তাদেরকেও গেমে আসক্ত হতে দেবে না । যারা কম্পিউটার গেমে আসক্ত হয়ে যায় , তাদের কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষন থাকে । যেমন তাদের মাথায় শুধু সার্বক্ষনিক শুধু সেই গেমটার ভাবনাই খেলা করে । যখনই তারা সেই গেমটি খেলতে বসে তাদের ভেতরে এক ধরনের অস্বাভাবিক উত্তেজনা ভর করে । তাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটতে থাকে । লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে উঠে । জোর করে তাদেরকে এই খেলা থেকে বিরত রাখা হলেও তাদের শারীরিক অস্বস্তি হতে থাকে । সবচেয়ে যেটা ভয়ের কথা ,অনেক কষ্ট করে এই আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়া গেলেও হঠাৎ করে কোনো একটা কারনে আবার সেই আসক্তি ফিরে আসতে পারে । যারা কোনো কারনে কম্পি্‌উটার গেমে আসক্ত হয়ে যায় তারা যদি এই আসক্তি থেকে মুক্ত হতে চায় তাহলে সবার আগে নিজের কাছে স্বীকার করে নিতে হবে যে তাদের আসক্তি জন্মেছে । তারপর তাকে জীবনের গুরুত্বপুর্ন বিষয় কী কী তার একটা তালিকা করতে হবে । সেই তালিকায় কম্পিউটার গেমের জায়গাটুকু কোথায় সেটি নিজেকে বুঝাতে হবে । তার জীবনের সমস্যাগুলোরও একটা তালিকা করতে হবে সেই তালিকায় সমস্যাগুলোর কোনো কোনোটি কম্পিউটার গেমের কারনে হয়েছে সেটও নিজেকে বোঝাতে হবে । তারপর জীবনের গুরুত্বপুর্ন কাজ লেখাপড়া , হোমওয়ার্ক, মাঠে খেলাধুলা  Extra Curricular Activitices ,পরিবারের সাথে সময় কাটানো ,সেচ্ছাসেবামূলক কাজে সবকিছুর জন্যে সময় ভাগ করে রাখতে হবে । সেই সব কিছু করার পর যদি কোনো সময় পাওয়া যায় শুধু তাহলেই কম্পিউটার গেম খেলবে বলে ঠিক করে নিতে হবে । ধীরে ধীরে কম্পিউটার গেমে সময় কমিয়ে এনে নিজেকে অন্যান্য সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে ।

যারা সামাজিক যোগাযোগ সাইটে আসক্ত হয়ে গেছে তাদের বেলাতেও আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য একইভাবে অগ্রসর হতে হবে । প্রথমে নিজেকে বোঝাতে হবে এই ধরনের সাইটে অতিরিক্ত সময় দেওয়া আসলে এক ধরনের আসক্তি । প্রত্যেকবার যখন সামাজিক যোগাযেগ সাইটে কিছু একটা দেখতে ইচ্ছা করবে তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে সত্যি কি তার প্রয়োজন আছে ? যদি প্রয়োজন না থাকে তাহলে নিজেকে নিবৃত্ত করতে হবে প্রত্যেকবার যোগাযোগ সাইটে ঢুকলে সেখানে কতটুকু সময় দেওয় হয়েছে সেটা কোথাও লিখে রাখতে হবে । দিনে কত ঘন্টা সময় দেওয়া হয় , সপ্তাহে কত ঘন্টা, মাসে কত ঘন্টা ,সেটা হিসাব করে সেই সময়টাতে সত্যিকারের কোনো কাজ করলে কতটুকু কাজ করা যেতে পারে সেটা নিজেকে বোঝাতে হবে ।

সামাজিক যোগাযোগের সাইটে আসক্তি কমাতে হলে সেখান থেকে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই এমন মানুষদের কাটছাট করে সংখ্যা কমিয়ে নিতে হবে । অন্য সব কাজ শেষ হওয়ার পর সময় থাকলেই এই সাইটে ঢোকা যাবে – এটি নিজেকে বোঝাতে হবে । পরীক্ষা কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপুর্ন ইভেন্ট -এর সাথে সামাজিক যোগাযোগের সাইটে Deactivate করে ফেলার অভ্যাস করতে হবে । এভাবে ধীরে ধীরে নিজেকে অভ্যাস্ত করে আসক্তিটুকু কমাতে কমাতে এক সময় পুর্ণভাবে মুক্ত হতে হবে ।

মনে রাথতে হবে জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত্ মূল্যবান । সেই মুহুর্তগুলো সত্যিকারের কাজে ব্যয় না করে কোনো একটি আসক্তির পেছনে ব্যয় করা খুব অপরাধ !

Pin It on Pinterest

Share This
My title page contents